CALL US
phone Call
হরমোন, থাইরয়েড, ডায়াবেটিস ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ - জে ডি প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরি ক্লিনিক (জে ডি প্যাথলজি সেন্টার)

হরমোন, থাইরয়েড, ডায়াবেটিস ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ

হরমোন, থাইরয়েড, ডায়াবেটিস ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ



থায়রয়েড গ্রন্থি

থায়রয়েড গ্রন্থি একটি অতি প্রয়োজনীয় অন্ত:ক্ষরা (এন্ডোক্রাইন/Endocrine) গ্লান্ড (Gland); যা গলার সামনের অংশে অবস্থিত। এটি মানব শরীরের প্রধান বিপাকীয় হরমোন তৈরিকারী গ্লান্ড। থায়রয়েড থেকে নি:সৃত প্রধান কার্যকরী হরমোনগুলো তৈরি করতে সাহয্য করে টিএসএইস (TSH) নামক আরেকটি হরমোন; যা মস্তিস্কের ভেতর পিটুইটারি (Pituitary) নামের গ্লান্ড থেকে নি:সৃত হয়।

থায়রয়েড হরমোনের অন্যতম কাজ হচ্ছে শরীরের বিপাকীয় হার বা বেসাল মেটাবলিক রেট (Basal metabolic) বাড়ানো। থায়রয়েড হরমোনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে স্নায়ুর পরিপক্বতা। এজন্য গর্ভাবস্থায় থায়রয়েড হরমোনের স্বল্পতায় গর্ভের বাচ্চা বোকা হয় অথবা বুদ্ধিদীপ্ত হয় না। যেসব উদ্দীপনায় বিপাক ক্রিয়া বেড়ে যায় যেমন- যৌবনপ্রাপ্তি, গর্ভাবস্থা, শরীরবৃত্তীয় কোনো চাপ ইত্যাদি কারণে থায়রয়েড গ্লান্ডের আকারগত বা কার্যকারিতায় পরিবর্তন হতে পারে।

থায়রয়েড গ্রন্থি থেকে মূলত দুই ধরনের সমস্যা দেখা যায়, গঠনগত ও কার্যগত। এরা বিভিন্ন উপায়ে প্রকাশ পেতে পারে।

গঠনগত সমস্যায় থায়রয়েড গ্রন্থি ফুলে যায় যেটাকে গয়টার (Goiter) বা গলগ বলা হয়; যার আবার রয়েছে নানা প্রকারভেদ। এছাড়া থায়রয়েড গ্লান্ডের গোটা বা নডিউল (Thyroid nodule) এবং থায়রয়েড গ্লান্ডের ক্যান্সার (Thyroid Cancer) হতে পারে।

কার্যগত সমস্যা দুই রকমের হয়ে থাকে তা হলো- থায়রয়েড গ্লান্ডের অতিরিক্ত কার্যকারিতা বা হাইপারথায়রয়েডডজম ও থায়রয়েড গ্লান্ডের কার্যকারিতা হ্রাস বা হাইপোথায়রয়েডডজম (Hypothyroidism) এছাড়া থায়রয়েড গ্লান্ডের প্রদাহ বা থাইরয়ডাইটিস (Thyroiditis) হতে পারে।

থায়রয়েড গ্লান্ডের অতিরিক্ত কার্যকারিতা বা হাইপারথায়রয়েডডজম (Hyperthyroidism) 

হাইপার থাইরয়ডিজম রোগে থায়রয়েড গ্লান্ড বেশি মাত্রায় সক্রিয় হয়ে পড়ে। থায়রয়েড গ্লান্ডের অতিরিক্ত কার্যকারিতার ফলে
    প্রচণ্ড গরম লাগা, হাত পা ঘামা।

    পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা, খাওয়ার রুচি স্বাভাবিক বা বেড়ে যাওয়ার পরও ওজন কমে যাওয়া, ঘন ঘন পায়খানা হওয়া।

    হার্ট ও ফুসফুসীয় সমস্যা: বুক ধড়ফড়, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, হার্ট ফেইলিওর, এনজাইনা বা বুক ব্যথা।

    স্নায়ু ও মাংসপেশির সমস্যা: অবসন্নতা বা নার্ভাসনেস, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া, উত্তেজনা, আবেগ প্রবণতা, সাইকোসিস বা মানসিক বিষাদগ্রস্ততা; হাত-পা কাঁপা, মাংসপেশি ও চক্ষুপেশির দুর্বলতা ইত্যাদি হতে পারে।

    এছাড়া হাড়ের ক্ষয় বা ওস্টিওপোরোসিস, মাসিকের সমস্যা, বন্ধ্যত্ব পর্যন্ত হতে পারে।

হাইপারথায়রয়েডডজমের কারণ
ক)    গ্রেভস ডিজিস (Graves' disease): এক ধরনের অটোইমিউন রোগ; যাতে থায়রয়েড গ্লান্ড এর পাশাপাশি রোগে আক্রান্ত হতে পারে এবং চোখ কোঠর থেকে বেরিয়ে আসে।

খ)    মাল্টিনডিউলার গয়টার (Multinodular goiter) 
গ)    অটোনামাসলি ফাংশনিং সলিটারি থায়রয়েড বডিউল (Autonomously functioning solitary thyroid nodule) 

ঘ)    থায়রয়েড গ্লান্ডের প্রদাহ বা থায়রয়েডাইটিস (Thyroiditis)

ঙ)    থায়রয়েড গ্লান্ড ছাড়া অন্য কোন উৎসের কারণে থায়রয়েড হরমোনের আধিক্য।

চ)    টিএসএইচজনিত (TSH related)

ছ)    ফলিকুলার ক্যান্সার (Follicular cancer) ও অন্যান্য।

হাইপার-থায়রয়েডডজমের চিকিৎসা হচ্ছে অ্যান্টিথায়রয়েড ওষুধ। যেটি থায়রয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতাকে কমিয়ে দেবে। ওষুধ ব্যতিরেকে কখনো কখনো সার্জারি করা প্রয়োজন হতে পারে। যখন অ্যান্টি থায়রয়েড ওষুধ ব্যবহার করা হয়, এটি বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেড় থেকে দুই বছর ব্যবহার করা হয়। তারপর এ ওষুধ তাকে বন্ধ করে দিতে হবে। রোগী যদি স্বাভাবিক থাকে, খুব ভালো কথা, তবে যদি আবারও রোগ ফিরে আসে তবে সাধারণত রেডিও আয়োডিন দিয়ে গ্লান্ড নষ্ট করে দিতে হয়।

থায়রয়েড গ্লান্ডের কার্যকারিতা হ্রাস বা হাইপোথায়রয়ডিজম (Hypothyroidism)
হাইপোথায়রয়েডডজম মূলত নিম্নলিখিত কারণে দেখা যায়। যেসব অঞ্চলে আয়োডিনের অভাব রয়েছে, সেখানে আয়োডিনের অভাবজনিত কারণে হাইপোথায়রয়েডজম দেখা যায়। এছাড়া অটোইমিউন হাইপোথাইরয়ডিজম এ থায়রয়েড গ্লান্ডের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি সক্রিয় হলে গ্লান্ড নষ্ট হয়ে যায় এবং থায়রয়েড গ্লান্ড কাজ করে না। চিকিৎসাজনিত কারণেও এই অসুখ হতে পারে। অপারেশনের কারণে থায়রয়েড গ্লান্ড বাদ দিতে হলে বা অন্য কারণেও থায়রয়েড নষ্ট হয়ে গেলে এ সমস্যা হতে পারে। হাইপারথায়রয়েডজমের ওষুধের ডোজ বেশি হলে তার থেকে হাইপারথাইরয়েডিজম হতে পারে। নবজাতক শিশুদের মধ্যে থায়রয়েড গ্লান্ড তৈরি বা কার্যকর না হলে কনজেনিটাল হাইপোথায়রয়েডডজম (Congenital Hypothyroidism) দেখা যায়।

হাইপোথায়রয়েডিজমের যে লক্ষণগুলো দেখা দেয়-
- অবসাদগ্রস্ত হওয়া, সাথে অলসতা, ঘুম-ঘুম ভাব।
- ত্বক খসখসে হয়ে যায়।
- করীর অল্প ফুলে যায়।
- ক্ষুধা মন্দা শুরু হয়।
- চুল পড়তে শুরু করে।
- ওজন অল্প বেড়ে যায়, ৫-৬ কিলো বেড়ে যেতে পারে।
- স্মৃতিশক্তি কমে যায়।
- শীত শীত ভাব দেখা যায়।
- কোষ্ঠকাঠিন্য শুরু হয়।
- মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়।
- ব্লাড প্রেশার বাড়তে পারে।
- মাসিকের সমস্যা হতে পারে।
- বন্ধ্যত্ব ও সমস্যা হতে পারে।
- গর্ভধারণকালে গর্ভপাত হতে পারে।
- কনজেনিটাল হাইপোথাইরয়ডিজমে শিশুর ব্রেণের বিকাশ হয় না।

থায়রয়েড ক্যান্সার (Thyroid cancer)
থায়রয়েড গ্রন্থির কোনো অংশ টিউমারের মতো ফুলে উঠলে বলা হয় থায়রয়েড নেডিউল। এসব থায়রয়েড নেডিউলের ১ শতাংশ থেকে থায়রয়েড ক্যান্সার হতে পারে। থায়রয়েড গ্রন্থির কোনো অংশের কোষসংখ্যা অনিয়ন্ত্রিতভাবে বৃদ্ধি পেলে তাকে থায়রয়েড ক্যান্সার বলে।

তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে থায়রয়েড গ্রন্থি বা এর অংশবিশেষ ফুলে ওঠা মানেই কিন্তু ক্যান্সার নয়।

থায়রয়েড ক্যান্সারে যে লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে:
    গলার সম্মুখভাগে ফুলে ওঠা। ফোলা অংশটি বেশ শক্ত হয়।
    একটি বা একাধিক টিউমার হতে পারে। উভয় পাশে টিউমার হতে পারে, আশপাশের লিঙ্ক নোডগুলো ফুলে উঠতে পারে।
    ওজন কমে যায়। খাওয়ার রুচি কমে যেতে পারে।
    গলার স্বর পরিবর্তন হতে পারে। গলার স্বর মোটা বা ফ্যাসফেসে হতে পারে।
    তবে থায়রয়েড নোডিউল বা ক্যান্সার ছাড়াও গলার সামনে ফুলে উঠতে পারে। 
    শ্বাসনালির ওপর চাপ সৃষ্টির ফলে শ্বাসকষ্ট হতে পারে।

খেয়াল রাখতে হবে যে নিকট বংশে থায়রয়েড ক্যান্সার এর ইতিহাস থাকলে ক্যান্সার স্ক্রিনিংয়ের জন্য অবশ্যই এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট বা হরমোন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

থায়রয়েড ক্যান্সার এমন একটি রোগ, যা সময়মতো চিকিৎসা করলে ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রেই সম্পূর্ণ আরোগ্য সম্ভব। তবে অবশ্যই সময়মতো চিকিৎসা করাতে হবে। গলার সামনে ফুলে উঠলে যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি একজন এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট বা হরমোন বিশেষজ্ঞ দেখানো উচিত। তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবেন এটা কোন ধরণের রোগ।

ক্যান্সার শনাক্ত হলে বা ক্যান্সার আছে এমন সন্দেহ হলে অতিদ্রুত নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ বা থায়রয়েড অপারেশনে পারদর্শী কোনো সার্জনের কাছে যেতে হবে। থায়রয়েড ক্যান্সারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো চিকিৎসা হচ্ছে অপারেশন বা সার্জারি করা। আক্রান্তের ধরনের ওপর নির্ভর করবে থায়রয়েড গ্রন্থির কতটুকু কাটতে হবে। অনেক সময় পুরো থায়রয়েড গ্রন্থি কেটে ফেলার প্রয়োজন হতে পারে।

কেমোথেরাপি প্রধানত সমন্বয় চিকিৎসা হিসেবে পিওরলি ডিফিরেনসিয়েটেড বা আনডিফিরেনসিয়েটেড থায়রয়েড ক্যান্সারের জন্য ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও শেষ পর্যায়ে থায়রয়েড ক্যান্সার রোগীদের ক্ষেত্রে যাদের অবস্থা দ্রুত ছড়িয়ে যায় তারা পেলিয়াটিভ থেরাপি নিতে পারেন।

জিজ্ঞাসা প্রশ্ন:
প্রশ্ন: থায়রয়েড গ্লান্ড এবং এর রোগ এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?
উত্তর: থায়রয়েড গ্লান্ড মানব শরীরের প্রধান বিপাকীয় হরমোন তৈরিকারী গ্লান্ড। সময়মতো নির্ণয় করতে পারলে এ রোগ সফলভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব।

গর্ভকালীন অবস্থায়: মায়ের হাইপোথায়রয়েডিজমের কারণে বাচ্চার শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। এছাড়া বাচ্চার মধ্যে থায়রয়েড গ্লান্ড তৈরি বা কার্যকর না হলে কনজেনিটাল হাইপোথাইরয়ডিজম দেখা যায়। ক্রিটিনিজমের লক্ষণগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মাংসপেশী ও হাড় এবং স্নায়ুতন্ত্রের সঠিক বর্ধন না হওয়া। এর ফলে শিশু বেঁটে হয়, বোকা বা বৃদ্ধিহীন হয়ে থাকে। জিহ্বা বড় ও মুখ থেকে বেরিয়ে আসে এবং নাভির হার্ণিয়া (Hernia) হয়।

বাচ্চাদের ক্ষেত্রে হরমোনটি শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বিশেষ ভূমিকা রাখে; থায়রয়েড গ্রন্থি ঠিকমতো কাজ না করলে শারীরিক এবং মানসিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। একজন শিশু যদি ছোটবেলা থেকে এর অভাবে ভোগে তাহলে সে প্রতিবন্ধী হয়ে বড় হবে। যদি তাকে চিকিৎসা দেওয়া না হয় সে বুদ্ধি ও শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়ে যাবে।

বড়দের ক্ষেত্রে প্রজননে অক্ষমতা, মহিলাদের মাসিক সমস্যা; বাচ্চা পেটে নষ্ট হওয়াসহ নানা সমস্যা হতে পারে।

যদি চিকিৎসাবিহীন অবস্থায় অনেকদিন হাইপারথায়রয়েডডজম থাকে, তাহলে থায়রয়েড স্টর্ম (Thyroid storm) হতে পারে। থায়রয়েড স্টর্ম বলতে বুঝায় হঠাৎ করে অতিরিক্ত থায়রয়েড হরমোন তৈরি হয়ে যায়। এর ফলে প্রচণ্ড জ্বর, মাথা কাজ না করা, পেটে ব্যথা, উচ্চ রক্তচাপ, হার্টবিট অত্যন্ত বেড়ে যাওয়া এবং হার্ট ফেইলিওর (heart failure) হয়। তাৎক্ষনিক চিকিৎসা না করলে থায়রয়েড স্টর্ম জীবনঘাতী হতে পারে। সাধারণত ইনজেকশন ও স্ট্রোস হাইপারথায়রয়েডডজমের রোগীর মধ্যে থায়রয়েড স্টর্ম তৈরি করে।

আবার হাইপোথাইরয়েডিজমে অনেকদিন চিকিৎসাবিহীন থাকলে মিক্সএডমা কোমা হতে পারে। মিক্সএডেমা কোমা বলতে বুঝায় শরীরে থায়রয়েড হরমোনের পরিমাণ হঠাৎ অতিরিক্ত কমে যাওয়া, এর ফলে ব্রেইন ঠিকমতো কাজ করবে না। ইনফেকশন, অসুস্থতা, ঠাণ্ডা আবহাওয়া এবং কিছু ওষুধ এই কোমা তৈরি করে এবং সাধারণত বৃদ্ধ বয়সে হয়। হাইপারথায়রয়েডডজমের ফলে হওয়া থায়রয়েড স্টর্মের মতোই এই “মিক্সএডেমা কোমা জীবনঘাতী”। 

প্রশ্ন: এছাড়া আর কী সমস্যা হতে পারে?
উত্তর: থায়রয়েড গ্রন্থিতে টিউমার হতে পারে। যেটাকে নডিউল বলা হয়। সিঙ্গেল (একটি) নডিউল হতে পারে, মাল্টিপল (অনেক) নডিউল হতে পারে। সিঙ্গেল নডিউল হলে একটি কারণে হয়। যেমন- ফলিকুলার এডিনোমা। এটি বেনাইন বা ভাল ধরনের। সিস্ট হতে পারে। কলোয়েড গয়েটার হতে পারে। এগুলো সবাই ক্যান্সার তৈরীকারী নয়। তবে অনেক সময় ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে। যাকে সাধারণত থায়রয়েড ক্যান্সার বলা হয়। থায়রয়েড ক্যান্সার এমন একটি রোগ, যা সময়মতো চিকিৎসা করলে ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ আরোগ্য সম্ভব।

প্রশ্ন: আয়োডিনের সাথে থায়রয়েড গ্লান্ডের সম্পর্ক কী?
উত্তর: আয়োডিন থায়রয়েড হরমোন তৈরির বিশেষ একটি উপাদান। আয়োডিন যদি কম থাকে গ্রন্থি চেষ্টা করবে শরীরের হরমোনকে স্বাভাবিক রাখতে। সেক্ষেত্রে আস্তে আস্তে বড় হয়ে যাবে। যাকে হাইপাট্রোফি বলা হয়। গ্রন্থি বড় হয়ে যাবে এবং হরমোন স্বাভাবিকভাবে বের করার চেষ্টা করবে। করতে করতে এক সময় আর স্বাভাবিকভাবে তৈরি করতে পারবে না। সেক্ষেত্রে হাইপোথায়রয়েডডজম হয়ে যাবে।

আয়োডিনের অভাবজনিত কারণে নিম্নলিখিত বিশৃঙ্খলাগুলো ঘটতে পারে:
    থায়রয়েড গ্রন্থির বৃদ্ধি।
    মানসিক অসুস্থতা: ক্ষীণ বুদ্ধিমত্তা, মানসিক প্রতিবন্ধকতা, শিশুদের জ্ঞান সম্পর্কীয় উন্নয়নে বিকলতা।
    স্নায়ুপেশিগত দুর্বলতা ও স্প্যাস্টিসিট (পেশি শক্ত হয়ে যাওয়া)। 
    গর্ভবতী মহিলাদের মধ্যে মৃত শিশুর প্রসব এবং স্বাভাবিক ভ্রূণমোচন।
    মূকবধিরত্ব (কথা বলতে অক্ষমতা) ও ডোয়ারফিজমের বা বামনত্ব (অস্বাভাবিক)।
    (শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি) জন্মগত অস্বাভাবিকতা।
    দেখা, শোনা ও কথা বলায় অস্বাভাবিকতা।

আয়োডিনের সবচেয়ে সাধারণ উৎস হলো আয়োডিনযুক্ত লবণ। তাছাড়া নিম্নলিখিত অন্যান্য খাদ্যেও পাওয়া যায়।
*    ডিম
*    দুধ
*    সমুদ্র-শৈবাল
*    শেলফিস
*    সামুদ্রিক মাছ
*    সিফুড 

*    মাংস

*     খাদ্যশস্য

প্রশ্ন: স্বাভাবিকভাবে একজন ব্যক্তির শরীরে কতটা পরিমাণ লবণ প্রয়োজন?
উত্তর: গড়ে ১৫০ মাইক্রোগ্রাম (১,০০০,০০০ মাইক্রোগ্রাম=১ গ্রাম) প্রতিদিন।

প্রশ্ন: স্বাভাবিকভাবে একজন ব্যক্তির শরীরে কতটা পরিমাণ লবণ প্রয়োজন?
উত্তর: হ্যাঁ, সাধারণের তুলনায় গর্ভবতী মহিলার অতিরিক্ত আয়োডিনের প্রয়োজন, কারণ আয়োডিনের ঘাটতি গর্ভের শিশু ও গর্ভবতী মহিলার ক্ষেত্রে মারাত্মক।

প্রশ্ন: থায়রয়েড রোগ নির্ণয়ের জন্য নিউক্লিয়ার মেডিসিনে পাঠানো হয় কেন?
উত্তর: নিউক্লিয়ার মেডিসিনে নির্দিষ্ট পরিমাণ তেজস্ক্রিয় আয়োডিন রোগীকে খাওয়ানোর পরে নির্দিষ্ট সময় পর কত শতাংশ অপটেক হচ্ছে থায়রয়েড গ্রন্থিতে এটি দেখা হয়। দেখে বলা যায় এর কার্যকারিতা কম না বেশি।

এছাড়া থাইরয়েডের স্ক্যান করা হয়, এখানে নির্দিষ্ট পরিমাণ তেজস্ক্রিয় টেকনেশিয়াম রোগীকে দেয়া হয়। এটি দেওয়ার নির্দিষ্ট সময় পরে গামা ক্যামেরা দিয়ে স্ক্যান করা হয়। গামা ক্যামেরা হলো এমন একটি ক্যামেরা যে গামা-রে দিয়ে ছবি নিতে পারে। স্ক্যানের মাধ্যমে দেখা হয় থায়রয়েড গ্রন্থির বিভিন্ন সমস্যা। আর যদি কোনো নডিউল থাকে এর কার্যকারিতা কেমন সেটিও দেখা যায়।

প্রশ্ন: তেজস্ক্রিয় না শুনলে অনেকেরই ভয় লাগে। এতে কোনো ক্ষতি হতে পারে কি?
উত্তর: সাধারণত যে পরিমাণ তেজস্ক্রিয় পদার্থ ব্যবহার করা হয, এটি পরিমাণে খুবই কম। এত ক্ষতির কোন আশঙ্কা নেই। তবে গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্য এটি নিষিদ্ধ।

প্রশ্ন: হাইপোথায়রয়েডডজম বা হাইপার থায়রয়েডডজমের বেলায় কি চিকিৎসার ক্ষেত্রে নিউক্লিয়ার মেডিসিনের কোন প্রভাব রয়েছে?
উত্তর: সাধারণত হাইপোথায়রয়েডডজমে চিকিৎসা হলে থায়রয়েড হরমোন পরিপূর্ণ। এই চিকিৎসা একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এবং একজন এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট বা হরমোন বিশেষজ্ঞ করতে পারে। এখানে নিউক্লিয়ার মেডিসিনের আলাদা করে কোনো ভূমিকা নেই। তবে যখন হাইপার থায়রয়েডডজম বা ক্যান্সারের বিষয়টি আসে, সেখানে শুধুমাত্র রোগ নির্ণয়ের জন্য এবং গ্লান্ড নষ্ট বা কোষ ধ্বংস করার জন্য নিউক্লিয়ার মেডিসিনের একটি বড় ভূমিকা রয়েছে।

    থায়রয়েড গ্লান্ড মানব শরীরে প্রধান বিপাকীয় হরমোন তৈরিকারী গ্লান্ড।
    বাচ্চাদের ক্ষেত্রে হরমোনটি শারীরিক এবং মানসিক বিকাশে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
    বড়দের ক্ষেত্রে প্রজননে অক্ষমতা, মহিলাদের মাসিকের সমস্যা, পেটের বাচ্চা নষ্ট হওয়াসহ নানা সমস্যা হতে পারে।
    থায়রয়েড ক্যান্সার এমন একটি রোগ, যা সময়মতো চিকিৎসা করলে ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ আরোগ্য সম্ভব।
    গর্ভবতী অবস্থায় মায়ের হাইপোথাইরয়ডিজমের কারণে বাচ্চা বোকা ও বুদ্ধিহীন হতে পারে।




জে ডি প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরি ক্লিনিক -এ
হরমোন, থাইরয়েড, ডায়াবেটিস ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ তে ডাক্তার আছেন -



ডা: মো: পলাশ মোল্লা

ডাঃ মোঃ পলাশ মোল্লা
এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য)
ডিইএম (এন্ডোক্রাইনোলজি), এফসিপিএস।। মেডিসিন এম এ সি ই (ইউ এস এ)
কনসালটেন্ট এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট এন্ড ডায়াবেটোলজিস্ট
১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল , নরসিংদী।

চিকিৎসা সমূহঃ।
...........................

১. ডায়াবেটিস ও ডায়াবেটিসজনিত কিডনি, চোখ, নার্ভ ও অন্যান্য জটিলতা
২. প্রেগনেন্সিতে (গর্ভকালীন) ডায়াবেটিস
৩. থাইরয়েড এর সমস্যা (ওজন বৃদ্ধি ,পায় পানি, কাজে অনীহা, ওজন হ্রাস, বুক ধড়ফড়, অতিরিক্ত ঘাম)
৪. গলগন্ড, থাইরয়েড-মডিউল/টিউমার।
৫. মেয়েদের গায়ে ও মুখে অতিরিক্ত লোম, অতিরিক্ত ব্রণ, মাথার চুল পড়া।
৬. হরমোন জনিত কারণে সন্তান না হওয়া।
৭. মেয়েদের মাসিক সমস্যা (অনিয়মিত/বেশি/কম/না হওয়া)
৮. অতিরিক্ত মোটা, রক্তে চর্বি/কোলেস্টেরল।
৯. হাড়ক্ষয় রোগ/অল্প আঘাতে হাড় ভেঙ্গে যাওয়া।
১০. কিডনিতে বারবার পাথর হওয়া।
১১. লিভারে চর্বি জমা।
১২. অবিবাহিত মেয়েদের বুকে দু*ধ নিঃসৃত হওয়া।
১৩. মেনোপোজাল সিনড্রোম : মাসি*ক বন্ধের পর হাত-পা জ্বালা পোড়া।
১৪. বাচ্চাদের শারীরিক বৃদ্ধি জনিত সমস্যা (বেটে/খাটো/অতিরিক্ত লম্বা)
১৫. শরীরে ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম,পটাশিয়াম,
ম্যাগনেসিয়ামের কম বা বৃদ্ধিজনিত সমস্যা।
১৬. ছেলেদের বড় স্তন, ছোট লিঙ্গ, দাড়ি, গোঁফ না উঠা।
১৭. কম বয়সে অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ।
১৮. হরমোনজনিত হাই ব্লাড প্রেসার/লো ব্লাড প্রেসার।
১৯. অন্যান্য যে কোন হরমোন জনিত সমস্যা।
.............................
উপরোক্ত সমস্যাসমূহের ক্ষেত্রে
এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট এর পরামর্শ নিন।
হরমোন,থাইরয়েড,মেডিসিন ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ

ডাঃ মোঃ পলাশ মোল্লা
এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য)
ডিইএম (এন্ডোক্রাইনোলজি), এফসিপিএস।। মেডিসিন এম এ সি ই (ইউ এস এ)
কনসালটেন্ট এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট এন্ড ডায়াবেটোলজিস্ট
১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল , নরসিংদী।
..................................
রোগী দেখার চেম্বার:
জে ডি প্যাথলজি সেন্টার
আওয়ামী লীগ অফিস সংলগ্ন ,সদর রোড নরসিংদী। ( নরসিংদী পৌরসভা থেকে 100 গজ উত্তর পাশে )
..............................
রোগী দেখার সময়:
প্রতি বৃহস্পতিবার দুপুর ৩ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত।

সিরিয়ালের জন্যঃ-
01324-419770
01780-401026
01711-698756

WhatsApp 01711698756
Facebook Messenger
website: www.jdpathology.com



সরাসরি ফোন করে সিরিয়াল নিশ্চিত করতে -

০১৭৮০৪০১০২৬


অথবা, অনলাইনে সিরিয়াল দিন -

জে ডি প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরি ক্লিনিক (জে ডি প্যাথলজি সেন্টার)
স্বর্গীয় সুরেশ চন্দ্র সাহা
জে ডি প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরি ক্লিনিক -এর প্রতিষ্ঠাতা
জে ডি প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরি ক্লিনিক (জে ডি প্যাথলজি সেন্টার)
শিবু চন্দ্র সাহা
ব্যবব্যবস্থাপনা পরিচালক
জে ডি প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরি ক্লিনিক (জে ডি প্যাথলজি সেন্টার)

জে ডি প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরি ক্লিনিক (জে ডি প্যাথলজি সেন্টার) যাত্রার প্রারম্ভকাল থেকেই সঠিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে সুনাম অর্জন করেছে।

শনিবার :- সকাল ৮ টা থেকে রাত ১০ টা
রবিবার :- সকাল ৮ টা থেকে রাত ১০ টা
সোমবার :- সকাল ৮ টা থেকে রাত ১০ টা
মঙ্গলবার :- সকাল ৮ টা থেকে রাত ১০ টা
মঙ্গলবার :- সকাল ৮ টা থেকে রাত ১০ টা
মঙ্গলবার :- সকাল ৮ টা থেকে রাত ১০ টা
শুক্রবার :- সকাল ৭ টা থেকে রাত ১০ টা
ইমার্জেন্সি :- ২৪ ঘন্টা সেবা